সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু ‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান সমাজের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক ‘ভুয়া আইডি খুলে ধর্মীয় উসকানির’ অভিযোগে করেছিলেন জিডি, বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ নিল হেফাজতে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার গরমিলের অভিযোগ, প্রধান আসামি আটক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মিডিয়াতে অবদান রাখায় ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স’ সম্মাননা পেলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আ স ম মাসুম ‘গ্রাম সরকার’ গঠনের উদ্যোগ ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ আহত ৫ এসিল্যান্ডের আচরণে আকস্মিক পরিবর্তন, নেপথ্যে কী? ‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, দু’জনই বদলি! ৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি আমন চাষে খরচের বোঝা, লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক চিকিৎসক সংকটে নাজুক সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা, ৩৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১১২ জন সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমা ও প্রসদসামগ্রী কিনতে ব্যস্ত ভক্তরা জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শীতের সবজির নতুন চালানে কাঁচাবাজারে স্বস্তি, তবে অসন্তোষ শিম-টমেটোর দামে
কালিজানা ব্রিজ যেন মরণফাঁদ

হেলে পড়েছে ব্রিজ, নেই সংযোগ সড়ক; ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

  • আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
হেলে পড়েছে ব্রিজ, নেই সংযোগ সড়ক; ঝুঁকি নিয়ে পারাপার
সাইফ উল্লাহ ::
ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মনাই নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে কালিজানা ব্রিজ। সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের অভাবে ব্রিজটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুই দিকে নেই প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক। ফলে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পারাপার করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষায় দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মনাই নদীর ওপর কালিজানা ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ব্রিজটির রেলিং ভেঙে গেছে। একাধিকবার বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ও চাপে ব্রিজটি একদিকে হেলে পড়েছে। একই সঙ্গে দুই পাশের মাটি সরে যাওয়ায় সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে ব্রিজটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ব্রিজের আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন অনেক স্থানে বাঁশের মই কিংবা সাঁকো ব্যবহার করে মানুষকে পারাপার হতে হয়। শুকনো মৌসুমেও ব্রিজের দুই পাশের বেহাল সংযোগ সড়কের কারণে ভোগান্তির শেষ নেই। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাবী, সরিষাম, মির্জাপুর, কাকিয়াম, শিংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ এই কালিজানা ব্রিজ। ব্রিজটি সচল থাকলে অল্প সময়েই উপজেলা সদরে যাতায়াত করা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালিজানা ব্রিজ পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধনও করেন। স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের বন্যায় ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে তখন উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন জানিয়েছিলেন, কালিজানা ব্রিজটি ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু মেরামত প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি পুনঃনির্মাণের আশা রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটির দৃশ্যমান সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে একটি নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্রিজের দুই দিকের সংযোগ সড়কও স্থায়ীভাবে সংস্কার করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কালিজানা ব্রিজটি শুধু একটি সেতু নয়, এটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ করা হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহাবউদ্দিন বলেন, এই ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছি। অচিরেই ব্রিজটির কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান

‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান